সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

কুয়েতে হত্যার পর ভারতীয় প্রবাসীর মরদেহ ফেলা হলো আবর্জনায়, কারণ ঘিরে রহস্য

কুয়েতে এক ভারতীয় প্রবাসীর মরদেহ আবর্জনার কনটেইনারে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় আরেক ভারতীয়কে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। মরদেহ সরিয়ে ফেলার কথা স্বীকার করলেও ওই ব্যক্তির মৃত্যুর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন আটক ব্যক্তি। ফলে কীভাবে ওই প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে তদন্তকারীদের সামনে এখনো স্পষ্ট উত্তর নেই।

কুয়েতের ইংরেজি দৈনিক আরব টাইমস ২৪ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আবর্জনার কনটেইনারে এক পরিচয়হীন প্রবাসীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপারেশনস রুম। নিহত ব্যক্তির কাছে কোনো পরিচয়পত্র না পাওয়ায় প্রথমে তার পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরে মরদেহটি ফরেনসিক বিভাগের কাছে পাঠানো হয়।

তদন্তের একপর্যায়ে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি মরদেহ উদ্ধারের স্থানটির কাছাকাছি একটি কক্ষে থাকতেন বলে জানা গেছে। এ সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে আরেক ভারতীয় প্রবাসীকে শনাক্ত করে নিরাপত্তা বাহিনী।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেন, তিনি ওই ব্যক্তির মরদেহ সরিয়ে আবর্জনার কনটেইনারে ফেলেছিলেন। তবে তার দাবি, মৃত্যুর আগে ওই প্রবাসী ওষুধ সেবন করেছিলেন। পরে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর জন্য তাকে দায়ী করা হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই মরদেহ সরিয়ে ফেলেন বলে তদন্তকারীদের জানান তিনি।

মরদেহ সরানোর স্বীকারোক্তি, তবে মৃত্যুর কারণ এখনো অজানা
তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ওই প্রবাসীর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল। আটক ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি ওষুধ সেবন করেছিলেন। তবে এ দাবির সত্যতা কিংবা ওষুধ সেবনের সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্দেহজনক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি জানতে ফরেনসিক বিভাগের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আটক ব্যক্তির স্বীকারোক্তিতে মরদেহ সরিয়ে ফেলার বিষয়টি উঠে এলেও, সেটিই মৃত্যুর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে না। নিহত ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং আটক ব্যক্তির বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়গুলো তদন্তে এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *