সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা নির্দিষ্ট আয়, আবাসন ও কাগজপত্রের শর্ত পূরণ করে স্ত্রীকে রেসিডেন্স ভিসায় নিজেদের কাছে নিতে পারেন। এ জন্য শুধু বৈধ রেসিডেন্স ভিসা থাকলেই হবে না, প্রমাণ করতে হবে নির্ধারিত আয় ও বাসস্থানের ব্যবস্থাও। আবেদন, মেডিকেল পরীক্ষা ও পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন খরচ মিলিয়ে আনুমানিক ২ হাজার ১৩৫ দিরহাম প্রয়োজন হতে পারে। তবে আবেদনকারীর অবস্থান ও ভিসার ধরন অনুযায়ী এ ব্যয় বাড়তে পারে।
দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের স্পনসর করতে আবেদনকারীর নিজের রেসিডেন্স ভিসা ও এমিরেটস আইডির মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকতে হবে। মাসিক বেতন হতে হবে কমপক্ষে ৪ হাজার দিরহাম। বিকল্প হিসেবে ৩ হাজার দিরহাম বেতনের সঙ্গে বাসস্থানের সুবিধা থাকলেও আবেদন করা যায়।
আবাসনের প্রমাণ হিসেবে নিবন্ধিত ভাড়ার চুক্তি অথবা নিজের বাড়ির মালিকানাসংক্রান্ত নথি জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্পনসরের চাকরির পদবি বা পেশা এখন আর যোগ্যতা নির্ধারণের প্রধান শর্ত নয়।
স্ত্রীর ভিসার জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে
স্ত্রীর রেসিডেন্স ভিসার আবেদন করতে প্রথমেই প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদ থাকা পাসপোর্ট। পাশাপাশি বিয়ের সনদ যথাযথভাবে সত্যায়িত করে আরবি অনুবাদসহ জমা দিতে হবে।
বিয়ের সনদ সত্যায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। যে দেশে সনদটি ইস্যু করা হয়েছে, সেই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ইউএই দূতাবাসের সত্যায়ন নিতে হবে। এরপর ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়নও প্রয়োজন।
এ ছাড়া আবেদনকারীর জন্য প্রয়োজন হতে পারে:
স্ত্রীর পাসপোর্টের কপি ও সাদা পটভূমিতে তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
স্পনসরের বৈধ রেসিডেন্স ভিসা ও এমিরেটস আইডি।
নির্ধারিত বেতন ও আবাসনের প্রমাণপত্র।
স্ত্রী আগে থেকেই ইউএইতে থাকলে তাঁর প্রবেশ অনুমতি বা ভিসার কপি।
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী আবেদনকারীর অনুমোদিত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষার সনদ।
কাগজপত্রে কোনো ঘাটতি থাকলে আবেদনপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে। বিশেষ করে বিয়ের সনদ সত্যায়ন ও আরবি অনুবাদের বিষয়টি আগেই নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কোথায় আবেদন করবেন
স্ত্রীর রেসিডেন্স ভিসার জন্য ইউএইর ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটির (ICP) অনলাইন পোর্টাল অথবা দুবাইয়ের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব রেসিডেন্সি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্সের (GDRFA) ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া আমের সেন্টার কিংবা অনুমোদিত টাইপিং সেন্টারের মাধ্যমেও আবেদন করা সম্ভব।
প্রথমে প্রবেশ অনুমতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এরপর ইউএইতে প্রবেশের পর মেডিকেল পরীক্ষা, এমিরেটস আইডির আবেদন এবং বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার ধাপ রয়েছে। সাধারণত স্পনসরের রেসিডেন্স ভিসার মেয়াদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এক থেকে তিন বছরের ভিসা দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা ইউএইতে প্রবেশ করার পর ৬০ দিনের মধ্যে তাঁদের রেসিডেন্স ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
কোন খাতে কত খরচ
গালফ নিউজের ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রীকে রেসিডেন্স ভিসায় নিতে বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য খরচের হিসাব নিচে দেওয়া হলো।
খরচের খাত
ফি
প্রবেশ অনুমতি
৫৫০ দিরহাম
ফাইল খোলা
৩০০ দিরহাম
দুই বছরের এমিরেটস আইডি
৩৮৫ দিরহাম
মেডিকেল পরীক্ষা
৩২০ দিরহাম
ভিসা স্ট্যাম্পিং
৫৮০ দিরহাম
মোট
২,১৩৫ দিরহাম
স্ত্রী আগে থেকেই ইউএইতে অবস্থান করলে ভিসার ধরন পরিবর্তনের জন্য অতিরিক্ত ৭৫০ দিরহাম লাগতে পারে। ফলে সব আবেদনকারীর খরচ এক হবে না। আমিরাত, আবেদনকারীর অবস্থান এবং আবেদনপ্রক্রিয়ার ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত ফিও যুক্ত হতে পারে।
আবেদনের আগে যে বিষয়টি যাচাই জরুরি
উল্লিখিত ফি ২০২৫ সালের ৫ আগস্টের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বর্তমান ফি ও শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিয়ের সনদ সত্যায়ন, অনুবাদ, মেডিকেল পরীক্ষা এবং ভিসার ধরন পরিবর্তনের অতিরিক্ত খরচ মূল হিসাবের বাইরে পড়তে পারে।
প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং নিজের আয় ও আবাসনের যোগ্যতা নিশ্চিত করা। এতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা এড়ানো সহজ হবে। সূত্র: গালফ নিউজ








