একসময় বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করেছিলেন। সেই ঘটনার কথা মনে পড়ায় নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধতা থেকে অবশেষে রেলের ভাড়া পরিশোধ করলেন সৌদি আরবপ্রবাসী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। সরাসরি স্টেশনে যেতে না পারায় তার পক্ষে ভাতিজা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব খাতে জমা দিয়েছেন ৫ হাজার টাকা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে এ অর্থ জমা দেওয়া হয়। হাবিবুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রাধিকা এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন।
স্টেশন সূত্রে জানা যায়, অতীতে কোনো একসময় টিকিট ছাড়া ট্রেনে ভ্রমণ করেছিলেন হাবিবুর রহমান। পরে বিষয়টি উপলব্ধি করে পুরোনো সেই ভুল সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় নিজের ভাতিজাকে স্টেশনে পাঠিয়ে রেলের রাজস্ব খাতে ৫ হাজার টাকা জমা দেন।
পুরোনো ভুল শুধরে নেওয়ার উদ্যোগ
সাধারণত বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণের ঘটনা ধরা পড়লে যাত্রীকে নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া ও প্রযোজ্য জরিমানা দিতে হয়। কিন্তু হাবিবুর রহমানের ক্ষেত্রে বিষয়টি সামনে এসেছে অতীতের একটি ঘটনা নিজ উদ্যোগে সংশোধনের প্রচেষ্টা হিসেবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী কবির হোসেন তালুকদার জানান, হাবিবুর রহমান অতীতে ভুল করে টিকিট ছাড়া ট্রেনে ভ্রমণ করেছিলেন। সেই দায় থেকে মুক্ত হতে তিনি আগের ভাড়া পরিশোধের উদ্যোগ নেন। তার পক্ষ থেকে ভাতিজা স্টেশনে এসে ৫ হাজার টাকা রেলের রাজস্ব খাতে জমা দেন।
কবির হোসেন তালুকদার বলেন, হাবিবুর রহমানের এই উদ্যোগে রেল কর্তৃপক্ষ খুশি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে তা সংশোধনের চেষ্টা প্রশংসনীয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা
হাবিবুর রহমানের এই উদ্যোগের কথা সোমবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী কবির হোসেন তালুকদার। ‘পারাবত-জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও কালনী-পাহাড়িকা এক্সপ্রেস’ নামের একটি ফেসবুক পেজে বিষয়টি নিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়।
পোস্টে নিজের ভুল উপলব্ধি করে তা সংশোধনের মধ্যেই মানুষের প্রকৃত মহত্ত্বের পরিচয় পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেন কবির হোসেন তালুকদার। তার মতে, সততা কেবল অন্যের কাছে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত হওয়ার বিষয় নয়; বরং নিজের বিবেকের কাছে স্বচ্ছ থাকার নামই সততা।
তিনি আরও বলেন, অতীতের কোনো ভুল মনে পড়লে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া দায়িত্ববোধের পরিচয়। হাবিবুর রহমানের এই পদক্ষেপ অন্যদেরও সততা ও নৈতিকতার পথে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণকারীদের উদ্দেশে কবির হোসেন তালুকদার বলেন, অন্যরাও যদি হাবিবুর রহমানের মতো দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতেন, তাহলে রেলের আয় বাড়ত এবং দেশের উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হতো।
হাবিবুর রহমানের এই উদ্যোগে রেলের রাজস্ব খাতে অর্থ জমা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও বিবেকের তাড়নায় ভুল সংশোধনের একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।








