রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে প্রাণ হারানোর পর পরিচয় শনাক্ত করতেই লেগেছে দীর্ঘ সময়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর দেশে ফিরেছে নওগাঁর পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ। অগ্নিকাণ্ডের প্রায় তিন মাস পর শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছায় তাদের মরদেহ। তবে এই ফিরে আসা স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালেও পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের নতুন অধ্যায়।
শনিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে সেগুলো নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হয়।
বিকেলে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। প্রিয়জনের মরদেহ একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে শেষ পর্যন্ত মরদেহ ফিরে পাওয়াটাও হয়ে ওঠে এক বেদনাবিধুর অভিজ্ঞতা।
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া পাঁচজন হলেন নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ এলাকার মজনু রহমানের ছেলে শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের নাজমুল হুদার ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামানিকের ছেলে মিনহাজ প্রামানিক, মাধবপুর গ্রামের মজনু সরদারের ছেলে মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের আজহার আলীর ছেলে সাগর আলী।
শনাক্তে বিলম্ব, দেশে ফিরতেও দীর্ঘ অপেক্ষা
গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক প্রাণ হারান। আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সবার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বাকি সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন নওগাঁর এবং দুজন নাটোরের।
এর আগে, গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় নিহতদের কয়েকজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছিল। পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় বাকি সাতজনের মরদেহ দেশে ফিরতে অপেক্ষা করতে হয়। সর্বশেষ শনিবার সাতজনের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস প্রশাসনের
মরদেহ গ্রামে পৌঁছানো এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, মরদেহগুলো কোনো খরচ ছাড়াই স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়ার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে জেলা প্রশাসন রয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও দেওয়া হবে।
তবে প্রবাসীদের এমন মৃত্যুর ঘটনায় শুধু মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা বা পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই শেষ দায়িত্ব নয়। বিদেশের কর্মস্থলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ঘোষিত সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছানোও গুরুত্বপূর্ণ। রিয়াদের এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারের জন্য কী পরিমাণ আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে, কারখানাটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ছিল এবং দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয়ও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।








