‘আমি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম, আমার সন্তানকে যেন আমার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আমি সরকারের কাছে আর কিছু চাই না।’ সৌদি আরবের রিয়াদে কারখানার আগুনে নিহত ছেলে সাব্বির হোসেনের মরদেহ ফিরে পাওয়ার পর এভাবেই নিজের আকুতি জানিয়েছেন তার মা সাবিনা।
প্রায় তিন মাস আগে সৌদি আরবের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান সাব্বিরসহ ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক। পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশে পৌঁছায় নাটোরের দুই প্রবাসীর মরদেহ। বিকেল ৩টার দিকে মরদেহ দুটি নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা এলাকায় তাদের বাড়িতে নেওয়া হয়।
নিহত দুই প্রবাসী হলেন নলডাঙ্গা উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের মোহাম্মদ শামীম ও খাজুরা গ্রামের সাব্বির হোসেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় শোকাবহ হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রইচ উদ্দিন জানান, শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৬ ফ্লাইটে মরদেহ দুটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে পরিবারের সদস্যরা সেগুলো নাটোরে নিয়ে আসেন। ওই দিনই খাজুরা কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দুই প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত, ফিরল শেষ সাতজনের মরদেহ
গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। দুর্ঘটনার পর গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় নয়জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। বাকি সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়।
বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বির স্বাক্ষরিত গত ২৯ অক্টোবরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বাকি সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বিজি-৩৩৬ ফ্লাইটে সাতজনের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এই সাতজনের মধ্যে নাটোরের দুইজন এবং নওগাঁর পাঁচজন। ফলে প্রথম দফায় নয়জনের পর বাকি সাতজনের মরদেহও দেশে ফিরেছে।
পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস প্রশাসনের
ছেলের মরদেহ ফিরে পাওয়ার পর সাব্বিরের মা সাবিনা বলেন, তিনি সরকারের কাছে সন্তানকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। তার আর কোনো চাওয়া নেই।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, রিয়াদ থেকে যুগ্ম সচিব তাদের চিঠি দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো চাহিদা থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে মরদেহ দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলেও অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য পরবর্তী সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কী ধরনের আর্থিক সহায়তা পাবে এবং সেই সহায়তা কবে নিশ্চিত হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ বা সময়সীমা জানানো হয়নি।








