বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

সবশেষ

যুক্তরাজ্যের এইচপিআই ভিসায় সুযোগ নেই বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের, তালিকায় নেই দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়

উচ্চশিক্ষা শেষে যুক্তরাজ্যে গিয়ে কাজ কিংবা চাকরি খোঁজার সুযোগ থাকলেও নতুন করে প্রকাশিত দেশটির বিশেষ ভিসার যোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় জায়গা হয়নি বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের। একই তালিকায় নেই ভারত ও পাকিস্তানের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। ফলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা আপাতত এই তালিকার ভিত্তিতে হাই পটেনশিয়াল ইন্ডিভিজুয়াল (এইচপিআই) ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত নতুন তালিকায় বিশ্বের ৮২টি বিশ্ববিদ্যালয়কে এই ভিসার জন্য যোগ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলতি নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের এইচপিআই ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা বিবেচনা করা হবে।

চাকরির প্রস্তাব ছাড়াই যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সুযোগ
এইচপিআই ভিসার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, আবেদন করার আগে যুক্তরাজ্যের কোনো নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব কিংবা স্পনসরশিপ নিতে হয় না। যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থিত তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি স্নাতক সম্পন্ন করা যোগ্য শিক্ষার্থীরা এ ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে গিয়ে বসবাস, কাজ কিংবা চাকরি খোঁজার সুযোগ পান।

এ কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে ভিসাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে সরাসরি চাকরির সুযোগ না পেয়েও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি বিকল্প পথ তৈরি করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাই নির্ধারণ করছে আবেদনের সুযোগ
এইচপিআই ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত যোগ্যতার পাশাপাশি তিনি কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ কেবল ভালো ফলাফল কিংবা উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি থাকলেই এ ভিসার আবেদন করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত যোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় থাকতে হবে।

নতুন তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় দক্ষিণ এশিয়ার এই তিন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগটি সীমিত হয়ে পড়েছে।

তালিকায় নাম থাকলেও ভিসা নিশ্চিত নয়
যোগ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করলেও আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এইচপিআই ভিসা পাবেন না। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে ইংরেজি ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং যুক্তরাজ্যে অবস্থানের জন্য নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণের বিষয় রয়েছে।

ফলে ৮২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নাম থাকা মূলত আবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা। ভিসা পাওয়ার জন্য বাকি শর্তগুলোও পূরণ করতে হবে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন তালিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে ভবিষ্যতে তালিকা পরিবর্তন বা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের বাইরে অতিরিক্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *