তিনি নিরীক্ষা দলের প্রধান। সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত দলের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) আনোয়ারুজ্জামান, এসপিও খালেদ মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন, প্রিন্সিপাল অফিসার কাজী মো. সোলায়মান হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার দেবাশীষ মল্লিক, প্রিন্সিপাল অফিসার মো. ইকবাল কবীর ও প্রিন্সিপাল অফিসার একেএম ফজলুল করিম।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি সৈয়দপুর শাখা থেকে ৪৩ কোটি সরানো হয়। এর মধ্যে ১৫ কোটি সরানো হয়েছিল ব্যাংকটির রংপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকার ইসলামী ব্যাংকিং শাখা থেকে। ওই শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফের অ্যাকাউন্টেও পাঠানো হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমাল ব্যাংকের কয়েকজন সহকর্মীর অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে এসব টাকা আত্মসাৎ করেন, যা চলছিল ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচরীর সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করর শর্তে তারা বলেন, এ ঘটনায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমাল একা দায়ী নন। তার সঙ্গে অনেকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ নিয়ে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি সৈয়দপুর শাখা ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান বলেন, আইটি বিভাগের গাফিলতির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা টাকা অপসারণের ঘটনায় কে তার নজরে আসেনি বলে এড়িয়ে যান।
জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী সদরের কাঞ্চনপাড়ায়। তবে তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন রংপুর শহরের রহমতপুরে।
তার প্রতিবেশীরা জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে সপরিবারে বিদেশ চলে গেছেন তমাল।
তার বড় ভাই তুহিন সালেহীন জানান, তমাল দুবাইয়ে আছেন। তবে কি কারণে তমাল সেখানে আছেন, তা তিনি জানেন না। ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান।
এ নিয়ে ব্যাংকের রংপুর বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, সারাক্ষণ কম্পিউটার চেক করার মতো যথেষ্ঠ সময় আমার হাতে নেই। আমার অধীনে পাঁচটি জোন রয়েছে। এসবের প্রশাসনিক কাজ দেখভাল করতে হয়। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জানানো হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি সৈয়দপুর শাখা ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান ও ব্যাংকটির ওই শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালকে কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্ত করেছে।








