মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

সবশেষ

মার্কিন অবরোধের মধ্যেও হরমুজ পার হলো রুশ প্রমোদতরী, কিন্তু কীভাবে?

মার্কিন-ইইউ নিষেধাজ্ঞার শিকার রুশ ধনকুবের অ্যালেক্সি মোরদাশভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সুপারইয়ট বা প্রমোদতরী শনিবার কোনো বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই অবরুদ্ধ নৌপথ দিয়ে যাতায়াতকারী হাতেগোনা কয়েকটি জাহাজের মধ্যে এটি অন্যতম।

মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ইস্পাত ব্যবসায়ী ও ভ্লাদিমির পুতিনের মিত্র অ্যালেক্সেই মোরদাশোভের মালিকানাধীন ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের এই ইয়টটি শুক্রবার দুবাইয়ের একটি মেরিনা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং রবিবার ভোরে তার গন্তব্যে পৌঁছায়।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এটা স্পষ্ট নয় যে বহুতলবিশিষ্ট প্রমোদতরীটি কীভাবে এই পথ ব্যবহারের অনুমতি পেল। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইরান এই নৌপথ দিয়ে যান চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করেছে, যা দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।

তেহরান তার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখায় পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন মাত্র কয়েকটি, প্রধানত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, এই সংখ্যা তার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে।

রাশিয়া ও ইরান দীর্ঘদিনের মিত্র এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের একটি চুক্তিও রয়েছে, যা দুই পক্ষের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে শক্তিশালী করেছে।

পাকিস্তান ও ওমানে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সম্প্রতি আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার (২৭ এপ্রিল) প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে রাশিয়া পৌঁছেছেন।

রয়টার্স বলছে, পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোরদাশভ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নর্ড’ নামের জাহাজটির মালিক হিসেবে তালিকাভুক্ত নন। কিন্তু ২০২৫ সালের জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য এবং রুশ করপোরেট নথি থেকে দেখা যায়, ২০২২ সালে জাহাজটি তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি রুশ প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়ার চেরিপোভেটস শহরে নিবন্ধিত, যেখানে মোরদাশভের ইস্পাত প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সেভেরস্টালও নিবন্ধিত।

পুতিনের সাথে সম্পর্কের কারণে ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন রুশ নাগরিকের মধ্যে মোরদাশভও ছিলেন।

তথ্য অনুযায়ী, ‘নর্ড’ ইয়টটিতে ২০টি শয়নকক্ষ, একটি সুইমিং পুল, একটি হেলিপ্যাড এবং একটি সাবমেরিন রয়েছে এবং এটি ইরানের উপকূল ঘেঁষে নির্ধারিত পথ অনুসরণ করেছে।
সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *