রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

সবশেষ

দেশে জ্বালানি তেলে অচলাবস্থা: ট্যাংকার ভর্তি, পাম্পে দীর্ঘ লাইন

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। একদিকে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ট্যাংকারে পেট্রোল ও অকটেন উপচে পড়ছে, অন্যদিকে পাম্পগুলোতে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন—ফলে তৈরি হয়েছে এক ধরনের দ্বৈত সংকট।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশ পূরণ করে স্থানীয় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে চারটি বেসরকারি ও একটি সরকারি। প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ হাজার টন পেট্রোল ও অকটেনের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ সরবরাহ করে দেশের বৃহত্তম সরবরাহকারী সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি।

তবে অভিযোগ উঠেছে, ৮ এপ্রিল সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সুপার পেট্রোকেমিক্যালের কাছ থেকে তেল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এতে প্রতিষ্ঠানটির ট্যাংকারগুলো পূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং উৎপাদন কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে বিভিন্ন পাম্পে ১ থেকে ২ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন তৈরি হওয়ায় জনভোগান্তি বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক বৈঠক করেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বর্তমানে দেশে অকটেন মজুতের সক্ষমতা ৫৩ হাজার টন হলেও মজুত রয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টন। এর মধ্যেই ১০ এপ্রিল ৩৭ হাজার টন অকটেনবাহী একটি জাহাজ দেশে পৌঁছায়, যা বিপিসির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।

সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণব কুমার সাহা জানান, ৫ এপ্রিলের বৈঠকে এপ্রিল মাসে ৩৭ হাজার টন পেট্রোল-অকটেন ও ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। তবে ৮ এপ্রিল থেকে বিতরণ কোম্পানিগুলো তেল নেওয়া বন্ধ করে দেয়।

তিনি আরও জানান, ফেব্রুয়ারিতে আসা একটি জাহাজের তেলও বিপিসি গ্রহণ না করায় মার্চে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছিল। আগামী ২০ এপ্রিল কাঁচামালবাহী আরেকটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে, তবে ট্যাংক খালি না হলে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান বলেন, অকটেন সংরক্ষণের আর জায়গা নেই। তাই বেসরকারি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সীমিত আকারে তেল নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিন বিতরণ কোম্পানি প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার ৭৭৭ টন ডিজেল, ১ হাজার ৪৯৬ টন পেট্রোল এবং ১ হাজার ১৯৩ টন অকটেন সরবরাহ করছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ৮ মার্চ থেকে সরকার তেল সরবরাহে রেশনিং চালু করে। পরে ঈদের আগে তা তুলে নেওয়া হলেও সরবরাহ সীমিত রাখার নির্দেশনা বহাল থাকে।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, সরবরাহ সীমিত থাকায় বাজারে আতঙ্ক ও মজুতদারির প্রবণতা বেড়েছে, যার ফলে পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তবে দেশীয় উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও তা গ্রহণ না করার কারণে বিপিসির ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *