শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করল মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি পণ্যের ওপর সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফেডারেল আদালতের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এই শুল্ক আরোপকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মামলায় অংশ নেওয়া আমদানিকারকদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের ওপর এই শুল্ক কার্যকর করা যাবে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের মার্কিন ট্রেড আইন অনুযায়ী এমন বিস্তৃত শুল্ক আরোপের জন্য যে ধরনের বিশেষ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রয়োজন, বর্তমান ক্ষেত্রে তা প্রমাণ করতে পারেনি সরকার। বিশেষ করে প্রশাসন যে বাণিজ্য ঘাটতির যুক্তি তুলে ধরেছিল, আদালতের মতে সেটি জরুরি পর্যায়ের নয় এবং সেই ভিত্তিতে সার্বিক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রয়োগ করা আইনি সীমার বাইরে চলে গেছে।

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা রাখলেও, সেই ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত এই ঘটনায় পূরণ হয়নি। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ আইনি বৈধতা হারিয়েছে বলে মত দেন বিচারকরা।

তবে আদালতের এই সিদ্ধান্ত আপাতত কেবল মামলাকারীদের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। অর্থাৎ, যারা আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল তাদের ওপর ভবিষ্যতে এই শুল্ক আরোপ করা যাবে না এবং আগের আদায়কৃত অর্থও ফেরত দিতে হবে। অন্যদিকে, মামলার বাইরে থাকা আমদানিকারকদের জন্য শুল্ক কার্যক্রম জুলাই পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে বলে জানা গেছে।

এই রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিস্তৃত বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা আরও সীমিত হয়ে পড়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে। পাশাপাশি বিকল্প পদ্ধতিতে দেশভিত্তিক নতুন শুল্ক কাঠামো চালুর বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।

এর আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও ট্রাম্পের বিস্তৃত শুল্ক নীতির কয়েকটি অংশকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। ফলে ধারাবাহিক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তার বাণিজ্যনীতি এখন আরও চাপে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই রায় শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির জন্যই নয়, বরং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শুল্ক কাঠামোর ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতায় শুল্ক আরোপের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *