পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন দূরপাল্লার বাস পরিবহন প্রতিষ্ঠান আগাম টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে। শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও টিকিট কেনার সুযোগ চালু করেছে বেশ কয়েকটি পরিবহন সংস্থা।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে আগেভাগেই টিকিট বিক্রি শুরু করা হয়েছে। এতে যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই নিজেদের ভ্রমণ পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে পারবেন।
শ্যামলী এন.আর. ট্রাভেলস জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে তাদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে শুক্রবার থেকেই। প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রহনপুর, কানসাট, নওগাঁ, রংপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, দেবীগঞ্জ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, ভুরুঙ্গামারী, সাকোয়া, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর রুটে যাত্রীরা আগাম টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
টিকিট সংগ্রহের জন্য কল্যাণপুর বড় কাউন্টার, খাজা মার্কেট, বিজিএমইএ, আসাদগেট ও শ্যামলী হল কাউন্টার নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন বুকিং সুবিধাও চালু রাখা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে যোগাযোগ নম্বর ও কিউআর কোডও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অরিন ট্রাভেলস জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে তাদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। ঢাকার কল্যাণপুর ও গাবতলী কাউন্টার থেকে গাইবান্ধা, জয়পুরহাট-হিলি ও রংপুর রুটের টিকিট দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাবতলী কাউন্টার থেকে শুধুমাত্র গাইবান্ধা রুটের টিকিট এবং কল্যাণপুর কাউন্টার থেকে জয়পুরহাট-হিলি ও রংপুর রুটের টিকিট পাওয়া যাবে।
অনলাইনে টিকিট কাটা যাত্রীদের নির্ধারিত বোর্ডিং পয়েন্ট থেকেই বাসে উঠতে হবে। অন্য কোথাও থেকে ওঠার চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ কোনো দায় নেবে না বলেও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ২৪ মে থেকে যানজট এড়াতে বাসগুলো ধামরাই-কালামপুর রুট ব্যবহার করবে এবং বিশমাইল কাউন্টার হবে শেষ বোর্ডিং পয়েন্ট। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, মোবাইল ফোনে কোনো টিকিট বুকিং নেওয়া হবে না; টিকিট সংগ্রহ করতে হবে সরাসরি কাউন্টার বা অনলাইনের মাধ্যমে। পাশাপাশি ২১ মে থেকে বিআরটিএ নির্ধারিত নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।
হানিফ এন্টারপ্রাইজ ভোর সাড়ে ৬টা থেকে রাজধানীর বালুরমাঠ, খালেক সিটি, কল্যাণপুর ও শ্যামলীর নির্ধারিত কাউন্টারগুলোতে একযোগে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির টিকিট কাউন্টার ছাড়াও অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে গ্রীন লাইন পরিবহন জানিয়েছে, তাদের সব কাউন্টার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঈদযাত্রার টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। তবে ঈদের টিকিট কোনোভাবেই ফেরত, পরিবর্তন বা রিফান্ড করা হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাই টিকিট কেনার সময় যাত্রীদের তারিখ, সময় ও গন্তব্য ভালোভাবে যাচাই করার অনুরোধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অনলাইনে টিকিট কাটার সময় সচল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। অনলাইনে কেনা টিকিটের প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখার পরামর্শও দিয়েছে গ্রীন লাইন কর্তৃপক্ষ।
সোহাগ পরিবহন প্রাইভেট লিমিটেডও জানিয়েছে, তাদের সব রুটের আগাম টিকিট এখন ওয়েবসাইট ও নির্ধারিত কাউন্টারে পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রীরা চাইলে অনলাইন কিংবা সরাসরি কাউন্টার, দুই মাধ্যমেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। অনলাইন ও কাউন্টার, উভয় ক্ষেত্রেই একই ভাড়া কার্যকর থাকবে।








