গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে হত্যার পর অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া নিজেই ফোন করে স্বজনদের বিষয়টি জানিয়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পরিবার। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। শনিবার সকালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
নিহতরা হলেন, ফুরকানের স্ত্রী শারমিন, তাদের তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২), এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাইভেটকারচালক ফুরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়ির নিচতলায় ভাড়া ওঠেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর এলাকায়।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করেন। ফোনে তিনি জানান, পাঁচজনকে হত্যা করে তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে রক্তাক্ত দৃশ্য দেখতে পান।
ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ। শারমিনের মরদেহ পাওয়া যায় জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায়। আর রসুল মিয়ার মরদেহ ছিল বিছানার ওপর। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, কোকাকোলার বোতল এবং রান্না করা পায়েশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মরদেহের পাশে কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া গেছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে জানা যায়, এর আগে ফুরকান তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন। ওই অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ও উল্লেখ ছিল।
কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উদ্ধার হওয়া কাগজপত্র ও অন্যান্য আলামত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।








