রবিবার, ১০ মে ২০২৬

সবশেষ

পুলিশকে যেন কেউ দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণ ও দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সূচনালগ্নে রাজারবাগের মাটিতে পুলিশের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় হয়ে আছে। সেই স্মৃতিকে ধারণ করেই নতুন করে দায়িত্ব ও দেশপ্রেমের শপথ নেওয়ার সময় এসেছে।

রোববার (১০ মে) সকালে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার বিদ্রোহী ঘোষণা এবং ঢাকায় রাজারবাগে পুলিশের প্রতিরোধ স্বাধীনতার সংগ্রামকে আরও বেগবান করেছিল। ওই সময়ের ঘটনাগুলো স্বাধীনতাকামী মানুষের মধ্যে নতুন সাহস ও দৃঢ়তা তৈরি করেছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এখনো অনেক গবেষণা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। তিনি একটি ঐতিহাসিক প্রশ্নের কথাও উল্লেখ করেন—১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে যখন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঢাকায় বিপুলসংখ্যক সৈন্য আনা হচ্ছিল, তখন কেন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একত্রিত রাখা হয়েছিল, সেটি গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সদস্যদের কুচকাওয়াজ ও শৃঙ্খলাবোধের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি কেবল আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী নয়; বরং দায়িত্ববোধ, আত্মমর্যাদা এবং ভবিষ্যতের প্রতি আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। তিনি মনে করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পেশাদারিত্ব আরও শক্তিশালী ও জনমুখী হওয়া প্রয়োজন।

বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের ভোটে গঠিত বর্তমান সরকারকে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বহু বছর ধরে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা চায়, আর সেই প্রত্যাশা পূরণে পুলিশের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সামর্থ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান প্রত্যাশা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশ সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারী সদস্যরা সাহস, দক্ষতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করেছেন, যা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।

শেষে তিনি বলেন, বিদেশে যেমন বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি পাচ্ছে, তেমনি দেশের সাধারণ মানুষও পুলিশের কাছ থেকে মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। জনগণের আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়েই পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *