দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৫২ শিশুর মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে প্রতিটি মৃত শিশুর পরিবারের জন্য ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থমূলক রিট দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (১০ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব এ রিটটি দাখিল করেন। এতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে সাম্প্রতিক সময়ে হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রীয় দায় ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, গত ৫৫ দিনে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গড়ে প্রতিদিন অন্তত ছয়জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই সময়ে। তবে গত এক সপ্তাহে মৃত্যুর হার আরও বেড়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ১০ জনে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসার আশ্বাসের মধ্যেই বাস্তবে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটেছে, যেখানে আগের তুলনায় মৃত্যুহার প্রায় দেড়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা বিভাগ, আর তুলনামূলকভাবে কম আক্রান্ত রংপুর বিভাগে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গতকাল একদিনেই আরও ৯ জন শিশু হাম ও এর উপসর্গে মারা গেছে।
এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি পরিসংখ্যানকে ভিত্তি ধরলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত এবং হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, টিকার সংকট এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং গরমে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়া, এই দুই বিষয় বর্তমান প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, শিশুর শরীরে জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি।








