রবিবার, ১০ মে ২০২৬

কাতার-কুয়েত-আমিরাতে ড্রোন হামলা, জাহাজে আগুন

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আবারও নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রোববার কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৃথক ড্রোন হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে কাতারের জলসীমায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। তবে কুয়েত ও আমিরাতে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানানো হয়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া অন্তত দুটি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে দেশটি দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজারের বেশি ড্রোন মোকাবিলা করেছে।

আমিরাতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী ৫৫১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২৬৫টি ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করেছে। এসব হামলাকে তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবুধাবি থেকে আসা একটি পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ রোববার সকালে দেশটির জলসীমায় ড্রোন হামলার মুখে পড়ে। মেসাইদ বন্দরের উত্তর-পূর্ব দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় জাহাজে সীমিত আকারে আগুন লাগে। তবে জাহাজে থাকা কেউ হতাহত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করছে।

এদিকে, ব্রিটেনভিত্তিক একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাও একই ধরনের তথ্য দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দোহার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুয়েতেও একই দিনে ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। দেশটির সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, ভোরের দিকে কুয়েতের আকাশসীমায় কয়েকটি সন্দেহভাজন শত্রু ড্রোন শনাক্ত করা হয়। পরে সামরিক বাহিনী নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে সেগুলো মোকাবিলা করে।

তবে কুয়েতের পক্ষ থেকে ড্রোনগুলোর উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে এই ধরনের ড্রোন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক নৌপথ ও আকাশ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *