হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইন-সমর্থিত খসড়া প্রস্তাব নিয়ে কঠোর আপত্তি জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের রেজল্যুশন সংকট কমানোর বদলে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
খসড়া প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালীতে হামলা ও মাইন স্থাপনের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, প্রস্তাবটি ভোটে গেলে চীন ও রাশিয়ার ভেটোর মুখে পড়তে পারে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রস্তাবটির ভাষা ও সময় বেইজিংয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এখন কোনো কঠোর রেজল্যুশন পাশ হলে তা উত্তেজনা প্রশমনের পরিবর্তে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
হরমুজ ও ইরান ইস্যুতে চীনের অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে সেই জল্পনাও নাকচ করেছে বেইজিং। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর মার্কিন গণমাধ্যমে যে আলোচনা শুরু হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বেইজিং জানিয়েছে, তারা একদিকে যেমন পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের বিরোধী, তেমনি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম ব্যবহার এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তির অধিকারকে সমর্থন করে।
লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন এশীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এমন ধারণা তৈরি করতে চাইছে যে, তারা ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়ে চীনকে নিজেদের অবস্থানের কাছাকাছি আনতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন-চীন আলোচনার পর এই প্রচারণা আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা কিংবা ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্য মূলত কূটনৈতিক বাস্তবতা আড়াল করার কৌশল।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে সামরিক উত্তেজনামুক্ত রাখা এবং অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার পক্ষে তারা রয়েছে। একইসঙ্গে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে ইরানের সার্বভৌম অধিকারকেও সম্মান করে বেইজিং।








