শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

সবশেষ

চীন থেকে দেশে ফেরার পথেই তাইওয়ানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে তাইওয়ান প্রশ্নে কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণার মতো কোনো পদক্ষেপ তিনি দেখতে চান না এবং এমন উদ্যোগ আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

শুক্রবার (১৫ মে) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পর ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো নীতির পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো একই নীতি অনুসরণ করছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি চাই না কেউ স্বাধীন হয়ে যাক। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে আগ্রহী নয়।

ট্রাম্প জানান, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার আলোচনায় তাইওয়ান ইস্যু গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছে। তবে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।

তিনি বলেন, একটি যুদ্ধের জন্য আমাদের ৯ হাজার ৫০০ মাইল পথ অতিক্রম করতে হবে। আমি সেটা চাই না। আমি চাই সবাই শান্ত থাকুক। আমি চাই চীনও শান্ত থাকুক।

দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চীন স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে একীভূত করার কথাও বারবার বলেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন না করলেও দ্বীপটির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই গত বুধবার (১৩ মে) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে যান ট্রাম্প। সফরের শেষ দিনে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার চূড়ান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাইওয়ান প্রসঙ্গ একাধিকবার আলোচনায় আসে।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি ও শি তাইওয়ান নিয়ে অনেক আলোচনা করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটিকে রক্ষায় সরাসরি জড়াবে কি না, সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, শি জিনপিং তাইওয়ান প্রশ্নে খুবই দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন এবং তিনি দ্বীপটিতে স্বাধীনতাকামী কোনো আন্দোলন দেখতে চান না।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, বৈঠকে শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়। তার ভাষায়, এটি সঠিকভাবে মোকাবিলা করা না হলে দুই পরাশক্তির মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তবে তাইওয়ান নিয়ে সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখছেন না বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমার মনে হয় না এমন কিছু হবে। আমি মনে করি আমরা ঠিক থাকব। শি যুদ্ধ চান না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের চারপাশে চীনের সামরিক মহড়া বাড়ায় অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও তাইওয়ানের জন্য বড় আকারের অস্ত্র সহায়তা পরিকল্পনা সামনে আনে।

গত বছরের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ বিক্রির ঘোষণা দেয়। এতে উন্নত রকেট লঞ্চার ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে বেইজিং।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, অস্ত্র বিক্রয় পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং এ নিয়ে তাইওয়ানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গেও তার কথা বলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *