দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখলেও, নানা সময়েই তারা কাঙ্ক্ষিত সম্মান ও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে আসছেন। এবার সেই বাস্তবতায় পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে সরকার।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে চালু হতে যাচ্ছে বিশেষ সুবিধাসংবলিত ‘প্রবাসী কার্ড’। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের আরও উৎসাহিত করা এবং তাদের জন্য কিছু বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করা।
বর্তমানে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য বিএমইটি কার্ড চালু রয়েছে। বৈধভাবে বিদেশে কাজ করতে যাওয়া এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে নিবন্ধিত ব্যক্তিরাই এ কার্ড পান। তবে নতুন প্রবাসী কার্ডে শুধু পরিচয় নয়, ব্যাংকিং ও আর্থিক সুবিধাও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
যদিও এখনো কার্ডের পূর্ণাঙ্গ সুবিধার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিমানবন্দরে বিশেষ সেবা, সরকারি দাপ্তরিক কাজে অগ্রাধিকার, বিনিয়োগ সুবিধা এবং কিছু নাগরিক সেবায় বাড়তি সুযোগ রাখা হতে পারে।
প্রবাসীদের জন্য সরকারের আরেকটি আলোচিত উদ্যোগ হচ্ছে বিশেষ আবাসন প্রকল্প। মন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে জমির সংকট বিবেচনায় ভবিষ্যতে প্লটের পরিবর্তে আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টভিত্তিক আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্পে শুধু প্রবাসীরাই বরাদ্দ পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আবাসনগুলোতে নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগের পাশাপাশি আধুনিক নাগরিক সুবিধাও থাকবে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা।
বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের অনেক প্রবাসী ধীরে ধীরে দেশের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছে, এমন বাস্তবতায় আবাসন, বিনিয়োগ ও পরিচয়পত্রভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের মাতৃভূমির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা চলছে।
তবে এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়। কারণ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধার ঘোষণা অতীতেও এসেছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হলো প্রবাসী আয়। তাই প্রবাসীদের জন্য সম্মানজনক সেবা, নিরাপদ বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংযোগ নিশ্চিত করা এখন শুধু সামাজিক দায় নয়, অর্থনৈতিক প্রয়োজনও।








