ঢাকায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বুধবার (৩ জুন) সকালে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষে একই দিনে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে পারেন। এসব কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আদালত রায়ের দিন ঘোষণা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে, মঙ্গলবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়। মাত্র একদিনেই আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন। এ সময় নিহত রামিসার বাবা-মা, তার বোন এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, সাক্ষীদের দেওয়া তথ্য ও জবানবন্দি আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে সমর্থন করেছে এবং অপরাধের প্রমাণ আদালতের সামনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১ জুন আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং মরদেহ গোপনের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করেন। এর মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। একই দিনে বাদীসহ মোট ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযোগপত্র গ্রহণের পর আদালত ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করেছিলেন। তদন্তে সংগৃহীত ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং বিভিন্ন ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত রামিসা ঢাকার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় স্বপ্না খাতুন তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যান।
কিছু সময় পর রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খোঁজ করতে গিয়ে আসামিদের বাসার সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল দেখতে পান তিনি। পরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার পরিবারের সদস্য ও আশপাশের বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
ভেতরে ঢুকে তারা এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে পান। সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। আর তার বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায় বাথরুমে রাখা একটি বড় বালতির ভেতরে।
ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার পর রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর ২০ মে সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার আগে ইয়াবা সেবনের কথাও উল্লেখ করেন।
এখন আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক পর্ব শেষ হলে মামলাটির রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করবেন আদালত। ফলে আলোচিত এ মামলার বিচারিক নিষ্পত্তির দিকে সবার নজর রয়েছে।








