বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সবশেষ

নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ, পুলিশ বলছে ‘ভিত্তিহীন’

যশোরের বেনাপোলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ এবং পুলিশের পাল্টা বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ভিন্নমত। দলটির দাবি, সীমান্ত পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারীকে বহনকারী গাড়িবহরে ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থানীয় পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং হামলার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করে এনসিপি। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে বেনাপোল বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল তরুণ নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারীকে বহনকারী মাইক্রোবাস লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে। পরে আরও হামলার ঘটনা ঘটে এবং এতে দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

এক বিবৃতিতে এনসিপি জানায়, সীমান্ত এলাকায় কথিত পুশইনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ শেষে ফেরার সময় তাদের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হন। তবে মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হকসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা নিরাপদে ঢাকা অভিমুখে রওনা দিয়েছেন।

দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, সাদিপুর সীমান্তে পরিদর্শন শেষে গাড়িতে ওঠার সময় কিছু যুবক ডিম ছুড়ে দ্রুত সরে যায়। পরে বেনাপোল বাজার এলাকায় পৌঁছালে আবারও হামলার মুখে পড়েন তারা।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভাঙা গাড়ির জানালার ছবি প্রকাশ করেন নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী। সেখানে তিনি দাবি করেন, সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ফেরার সময় তাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। তবে দলের অন্য সদস্যরা নিরাপদে রয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় মানবিক মর্যাদা, নাগরিক অধিকার ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, পুরো ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, এনসিপির কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে এবং এলাকায় কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

তার দাবি, কয়েকজন তরুণ কিছুটা উত্তেজিত হয়েছিল ঠিকই, তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সুযোগ হয়নি। হামলার বিষয়ে এনসিপির অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।

এ ঘটনায় এনসিপি ও পুলিশের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। হামলার অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *