বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

সবশেষ

গরমে হাঁসফাঁস: বৃষ্টি নিয়ে সুখবর দিলো আবহাওয়া অফিস

জুনের শুরুতেই দেশজুড়ে গরম যেন নতুন করে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের অন্তত ৪০টি জেলার মানুষ তাপপ্রবাহের মধ্যে দিন পার করছেন। প্রখর রোদ, গরম বাতাস এবং বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়লে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

বুধবার সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ ছিল একেবারে পরিষ্কার। সূর্যের তীব্র তাপে দুপুরের দিকে নগরজীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে শ্রমজীবী কর্মীদের সবাইকে গরমের সঙ্গে লড়াই করতে দেখা যায়।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় মানুষের কাছে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হচ্ছে।

তীব্র গরমের কারণে অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। আর যাদের কর্মক্ষেত্রের কারণে বাইরে থাকতে হচ্ছে, তারা ছাতা, টুপি ও পানির বোতল সঙ্গে রাখছেন। নগরীর বিভিন্ন সড়কে মানুষকে বারবার পানি ও শরবত পান করে কিছুটা স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী আহসান হাবিব বলেন, সকাল থেকেই প্রচণ্ড গরমে অস্বস্তি শুরু হয়। অফিসে পৌঁছানোর আগেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

একই চিত্র শ্রমজীবী মানুষের মধ্যেও। রিকশাচালক রমিজ উদ্দিন জানান, গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় রিকশা চালানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অল্প সময় কাজ করলেই ক্লান্তি আসে, বারবার পানি পান করতে হয়। তাছাড়া অতিরিক্ত গরমে রাস্তায় যাত্রীও কম থাকায় আয়ও কমে গেছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পাশাপাশি ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি এ অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। তবে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিতও মিলছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, এল নিনোর কারণে দেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

তিনি বলেন, সারা দেশে বৃষ্টিপাতের বিস্তার বাড়লে তাপপ্রবাহের তীব্রতা কমবে এবং মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।

গরমে যখন জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত, তখন আবহাওয়া বিভাগের এই পূর্বাভাস কিছুটা হলেও স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে। এখন সবার অপেক্ষা কাঙ্ক্ষিত সেই বৃষ্টির জন্য, যা হয়তো কয়েকদিনের অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *