শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

সবশেষ

আত্মপক্ষে সোহেল বললেন, ‘আমি দোষ করেছি, ডলারও করেছে, তারে ধরেন’

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে আট বছরের শিশুকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আদালতে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানিতে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ডলার নামের একজনও এই ঘটনায় জড়িত। তাকেও ধরা হোক। অন্যদিকে মামলার আরেক আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই শুনানি শেষে বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলায় যুক্তিতর্কের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সকালে সোহেল ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। তাদের রাখা হয় আদালতের হাজতখানায়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সোহেলকে, আর বেলা ১১টার দিকে স্বপ্নাকে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে এজলাসে আসেন বিচারক।

এরপর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। আসামি সোহেলের উদ্দেশে বিচারক বলেন, এই মামলায় তার বিরুদ্ধে ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর আদালত সোহেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য পড়ে শোনান।

সোহেলের কোনো বক্তব্য আছে কি না, তা জানতে চান আদালত। সোহেল কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি নির্দোষ, স্যার। আমার সাথে যে ছিল ডলার, তারে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা না, আমিও দোষ করেছি, ডলারও দোষ করেছে।…আমারে মাফ করে দেন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে।’

এ সময় আসামি সোহেল তার স্ত্রীর বিষয়ে বলেন, ‘আমার বউটা একদম নির্দোষ, স্যার।’

পরে আদালত স্বপ্নার উদ্দেশে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসহ সাক্ষ্যদের সাক্ষী অনুযায়ী তিনিও একই অপরাধে দোষী। তার কোনো কথা থাকলে তা বলতে বলেন আদালত।

আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণের আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করেন।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা সোহেল ঘটনার পর বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। বাসা থেকে তার স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। আর সেদিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল। শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা তিনি স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়। এই মামলায় গতকাল ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *