বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

সবশেষ

সবার জন্য চালু হচ্ছে হেলথ কার্ড, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মিলবে বিশেষ ছাড়

দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব করতে জাতীয় পর্যায়ে ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের পর এবার স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের, যেখানে একজন রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে একটি ইউনিক কার্ডে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাসে প্রথম ধাপে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, নরসিংদী ও নোয়াখালী জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে এটি দেশের অন্যান্য জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে।

বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কার্ড চালু করা। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হেলথ কার্ড সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ এবং এটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকি রয়েছে। জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুতগতিতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক একটি স্বতন্ত্র পরিচয় নম্বর পাবেন। সেই নম্বরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে তার চিকিৎসা ইতিহাস, রোগ নির্ণয়ের তথ্য এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসংক্রান্ত রেকর্ড। ফলে হাসপাতালে সেবা নিতে গেলে পূর্বের চিকিৎসা তথ্য খুঁজতে আলাদা ঝামেলা পোহাতে হবে না। কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্রুত রোগীর প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, কার্ডধারীরা সরকারি ও নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিশেষ ছাড় পাবেন। পাশাপাশি বছরে একবার নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বিনামূল্যে করার সুযোগও থাকবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা গ্রহণের শুরুতেই রোগ নির্ণয়ের জন্য যেসব পরীক্ষা প্রয়োজন হয়, সেগুলোর ব্যয় অনেক সময় সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই ব্যয় কমানোর পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্য রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালুর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের কিছু ডিজিটাল স্বাস্থ্য প্রকল্পের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

তার মতে, আদর্শ মডেল খুঁজতে দীর্ঘ সময় ব্যয় না করে কার্যক্রম শুরু করা উচিত। বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও উন্নয়ন আনা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, শুধু কার্ড চালু করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না। এ সুবিধা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রম নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *