বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

সবশেষ

যুক্তিতর্কের সময় কাঠগড়ায় স্বামী সোহেলকে মারতে যান স্বপ্না

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার যুক্তিতর্ক চলাকালে আদালতকক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি সোহেল রানাকে আঘাতের চেষ্টা করেন তার স্ত্রী ও সহ-আসামি স্বপ্না বেগম। পরে পুলিশ দ্রুত তাকে নিবৃত্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার দিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তিনি বলেন, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে সোহেল রানা ও স্বপ্না বেগম ছাড়া অন্য কারও উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির আগে সোহেল রানাকে সময় দেওয়া হলেও তিনি তখন ‘ডলার’ নামে কোনো ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেননি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণে মামলার মূল অভিযোগগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত মিলেছে এবং ডিএনএ নমুনা নষ্ট হওয়ায় ফরেনসিক বিশ্লেষণের সীমাবদ্ধতা থাকলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের সময় স্বপ্না বেগম কোনো ধরনের বাধা দেননি, যা তাকে অপরাধে সহযোগী হিসেবে প্রমাণ করে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সোহেল রানাকে নেশাগ্রস্ত হিসেবে উপস্থাপন করে তার দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে অনুরোধ জানান।

যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৭ জুন দিন নির্ধারণ করেন।

এর আগে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়। গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র জমা দেন এবং ১ জুন অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মাত্র একদিনে, ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় যেখানে ১৬ জন সাক্ষী জবানবন্দি দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ফরেনসিক রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ডিএনএ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরে অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে স্বপ্না বেগম কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে যান।

সেদিনই মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে তার স্যান্ডেল দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়, আর তার মাথা পাওয়া যায় বাথরুমে একটি বালতির ভেতরে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্না বেগমকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ২০ মে আদালতে সোহেল রানা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় এখন আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবার—সবাই তাকিয়ে আছে ৭ জুনের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *