ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই কঠোর অবস্থান জানালেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটেজ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ আবারও ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তাহলে পাল্টা জবাবে লেবাননের রাজধানী বৈরুতকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কাৎজ বলেন, যুদ্ধবিরতির কাঠামো চলমান থাকলেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনই সম্পূর্ণভাবে অভিযান বন্ধ করছে না। তার ভাষায়, দক্ষিণ লেবাননে নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’ বরাবর সেনারা অবস্থান ধরে রাখবে এবং সেখানে থাকা অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ইসরায়েলি জনপদে কোনো ধরনের গুলিবর্ষণ বা হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনসহ লেবাননের অভ্যন্তরে গভীর লক্ষ্যবস্তুতে, এমনকি বৈরুতেও আঘাত হানার অধিকার ইসরায়েলের থাকবে।
এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে তিন পক্ষের বৈঠকের পর ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির একটি কাঠামোতে সমঝোতা হয়েছে বলে জানানো হয়। চুক্তির মূল শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের উপস্থিতি সরিয়ে নিতে হবে।
সমঝোতা অনুযায়ী, একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে ২২ জুনের পর আবারও আলোচনায় বসার কথা রয়েছে দুই পক্ষের। পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট ‘পাইলট জোন’ লেবাননের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে কোনো অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই কাঠামোগত যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। কারণ হিজবুল্লাহ আগেই জানিয়েছে, তারা এ ধরনের যুদ্ধবিরতি কাঠামোকে স্বীকৃতি দেয় না এবং সামরিক প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার অবস্থানে রয়েছে।
চুক্তির ঘোষণা আসার দিনেও সীমান্ত এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। ওই সময় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালানোর দাবি করে, আর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালায়, যাতে অন্তত নয়জন নিহত হন বলে জানা যায়।এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মাঝেও নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।








