মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনা চললেও সেই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বাধা হিসেবে উঠে এসেছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নাম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক বিশ্লেষণে এমন মন্তব্য করেছে।
গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারেন নেতানিয়াহু। ফলে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা দ্রুত নিরসনের পরিবর্তে তা দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে তার রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কাজ করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার নেতানিয়াহুকে সংযত হওয়ার বার্তা দিলেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে কেন্দ্র করে তার কৌশল আগের মতোই কঠোর রয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশজুড়েই নিরাপত্তা ও যুদ্ধসংক্রান্ত ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, তার রাজনীতির মূল ভিত্তি কেবল সামরিক বিজয় নয়; বরং হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরান থেকে আসা নিরাপত্তা হুমকিকে জনমতের কেন্দ্রবিন্দুতে ধরে রাখা।
এদিকে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপের মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু। দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে সংসদ ভেঙে দেওয়ার একটি বিলের প্রথম ধাপ অনুমোদিত হওয়ার পর আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কারণে জনসমর্থনেও কিছুটা ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটে এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক প্রভাবের মুখোমুখি হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই বর্তমানে কোনো না কোনো ধরনের সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। তবে লেবানন ইস্যুতে ইসরাইলের অবস্থান, পাশাপাশি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষার কৌশল, সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যতই জোরদার হোক না কেন, আঞ্চলিক রাজনীতির জটিল সমীকরণ এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা সেই উদ্যোগের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়ে গেছে।








