আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও সান মারিনো। শুক্রবার (৫ জুন) স্বাগতিকদের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা স্বীকৃত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটি।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে ম্যাচ। তবে কিক-অফের আগেই আলোচনায় দুই দল। বিশেষ করে নতুন প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে সান মারিনো শিবিরে।
ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিস্তর হোমওয়ার্ক করেছে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ম্যাচের ভিডিও বিশ্লেষণ করেছেন কোচ রবার্তো চেভোলি ও তার টেকনিক্যাল স্টাফ। তাদের নজরে এসেছে বাংলাদেশের দ্রুতগতির কাউন্টার-অ্যাটাক এবং ট্রানজিশন ফুটবল।
সংবাদ সম্মেলনে চেভোলি বলেন, ফলাফলের চেয়ে দলের পারফরম্যান্স এবং খেলার ধারাবাহিকতা তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে ফারো দ্বীপপুঞ্জ ও অ্যান্ডোরার বিপক্ষে যে উন্নতির ছাপ দেখা গেছে, সেটি ধরে রাখতে চান তিনি।
বাংলাদেশকে নিয়ে সতর্কও সান মারিনোর কোচ। তার মতে, নতুন কোচের অধীনে বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে পারে। তাই ম্যাচে ট্যাকটিক্যাল চমকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।
সান মারিনোর অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ফিলিপ্পো বেরার্দিও ম্যাচটি নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার আলাদা আবেদন রয়েছে। দলের সবাই ম্যাচটির জন্য মুখিয়ে আছে এবং নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত।
দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত সান মারিনো। তবে সেই পরিচিত ছক ভাঙতে চাইছে দলটি। ধীরে ধীরে আরও আক্রমণাত্মক, বল-পজেশনভিত্তিক এবং প্রো-অ্যাকটিভ ফুটবলে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছে তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষের ম্যাচটিকেও সেই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন চেভোলি।
ম্যাচ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও কম নয়। সফরকারী সমর্থকদের জন্য বরাদ্দকৃত গ্যালারির সব টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। ফলে প্রাণবন্ত পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক এই লড়াই।
এ ম্যাচের জন্য ২৭ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে সান মারিনো। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিটানি ডট টিভি ম্যাচটির সরাসরি রেডিও সম্প্রচার করবে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে আন্তর্জাতিক সূচিতে আরেকটি চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সান মারিনোর সামনে। আগামী ৯ জুন হাঙ্গেরিতে ফিফা প্রীতি ম্যাচে আজারবাইজানের মুখোমুখি হবে দলটি।
প্রথম দেখায় কে হাসবে শেষ হাসি, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। তবে ফলাফল যাই হোক, বাংলাদেশ ও সান মারিনোর এই ম্যাচ আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হয়ে থাকছে।








