নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে আবাসিক খাতে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে নির্ধারিত বাড়তি মূল্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে লাইফলাইন শ্রেণিভুক্ত গ্রাহকরা আগের ট্যারিফেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিদ্যুতের খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণের পর প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য প্রস্তাবিত সুবিধা চূড়ান্ত ট্যারিফে প্রতিফলিত না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ উদ্বেগ প্রকাশ করে। পরে কমিশনের কাছে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, নতুন মূল্যহার কার্যকর হলে স্বল্প আয়ের এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেত, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। এ কারণে বিষয়টি সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করা হয়।
এর আগে বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ও সংস্থার প্রস্তাবের ভিত্তিতে গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। পরে কমিশন বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা পর্যায়ের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করে। তবে ওই সিদ্ধান্তে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) যে বিশেষ ট্যারিফ প্রস্তাব করেছিল, তা অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
বিষয়টি নজরে আসার পর বিদ্যুৎ বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে বিইআরসিকে চিঠি দিয়ে প্রান্তিক গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় ট্যারিফ পুনর্মূল্যায়নের অনুরোধ জানায়। চিঠিতে বিপিডিবির পাঠানো পূর্ববর্তী প্রস্তাবের আলোকে মূল্যহার সংশোধনের সুপারিশ করা হয়।
সরকারের নীতিগত অবস্থান এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সুপারিশ পর্যালোচনা করে বিইআরসি শেষ পর্যন্ত ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরোপিত অতিরিক্ত মূল্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে ০-৫০ ইউনিট এবং ০-৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকরা আগের মূল্যহারেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তে দেশের বিপুলসংখ্যক নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে এবং তাদের মাসিক ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে।








