শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

লেবাননে অবিলম্বে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের আহ্বান আইআরজিসির

লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ সামনে এসেছে, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে সংগঠনটি লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ইসরায়েলকে লেবাননের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের ভেতরে দখল করে রাখা সব এলাকা খালি করতে হবে এবং দেশটির জনগণের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। তাদের মতে, প্রকৃত শান্তির পূর্বশর্ত হলো লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখানো।

বিবৃতিতে লেবাননকে মর্যাদা ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশটি এখনও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের শিকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকারও সমালোচনা করে আইআরজিসি দাবি করেছে, শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং সহিংসতা বাড়াচ্ছে।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় ইসরায়েল এখন বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। তাদের অভিযোগ, ঘরবাড়ি, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও হামলার শিকার হচ্ছে। এছাড়া তারা দাবি করেছে, দখলকৃত এলাকার জনগণের মধ্যে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লেবাননের জনগণকে একা ফেলে দেওয়া হবে না এবং যুদ্ধের মাধ্যমে যা অর্জন করা সম্ভব হয়নি, তা রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতেও দেওয়া হবে না। আইআরজিসির দাবি, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ইরানের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে, নিঃশর্ত ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ইসরায়েল ও লেবানন একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির বিষয়ে নীতিগত সম্মতিতে পৌঁছায়। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নির্ভর করবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সব ধরনের হামলা বন্ধের ওপর।

চুক্তির খসড়ায় দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, নির্দিষ্ট কিছু ‘পাইলট জোন’ গঠন এবং ওই এলাকাগুলোকে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব অঞ্চলে কোনো অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই প্রস্তাব শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি একাধিকবার জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতা সংক্রান্ত আলোচনাকে বৈধ বলে মনে করে না এবং এ ধরনের চুক্তির বাধ্যবাধকতাও স্বীকার করে না।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে লেবাননে কোনো শর্তহীন যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ প্রস্তাবিত চুক্তিকে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত দিক থেকে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও যদি হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে বৈরুতের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না ইসরায়েল।

এর জবাবে কঠোর বার্তা দিয়েছে তেহরান। গত বুধবার লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মায়েদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, বৈরুতের ওপর হামলা হলে ইরান নীরব থাকবে না। তার মতে, এমন কোনো পদক্ষেপ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং পরিস্থিতি আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *