মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আবারও চাপে পড়েছে। কয়েক দিন ধরে চলা পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার মধ্যে এবার ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার পরপরই দেশটির দুটি উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক জাহাজের জন্য সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছিল।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু ড্রোন ধ্বংস করেই তারা থেমে থাকেনি। সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হামলার আশঙ্কায় ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশনগুলোতেও যৌথ সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে মার্কিন অভিযানের বিষয়ে তেহরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির দুর্বল অবস্থাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। কয়েক দিন আগেই উভয় পক্ষের মধ্যে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যার রেশ এখনও কাটেনি।
এরই মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত বুধবারের ড্রোন হামলাকে ঘিরেও দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
তবে হামলার দায় সরাসরি অস্বীকার করেছে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি ইন্টারসেপ্টরের ত্রুটির কারণেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে সেন্টকম এই ব্যাখ্যাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, কুয়েতের বিমানবন্দরে হামলাটি ছিল ইরানের পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।
এর আগে, আইআরজিসি জানিয়েছিল, একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা যখন কার্যত অচলাবস্থায় এবং স্থায়ী সমাধানের কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছিল না, তখন নতুন এই সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংঘাতের সূচনা হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয়।
একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কার্যত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তেহরান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় ইরানের ওই পদক্ষেপ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে এবং তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জারি রাখে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি সম্পন্ন ও স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে।








