শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

সবশেষ

‘৩ ফুটের মধ্যেও শিশুর নিরাপত্তা নেই’: রামিসা ধর্ষণ ও হত্যায় সর্বোচ্চ শাস্তি চান বাবা

মাত্র তিন ফুট দূরত্বের মধ্যে থেকেও একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে তা শুধু পরিবারের ব্যর্থতা নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও বড় প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশু রামিসা আক্তারের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। একই সঙ্গে মেয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও দ্রুত তা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি ফ্ল্যাটের দুই দরজার মাঝখানে মাত্র তিন ফুট দূরত্ব থাকলেও সেখানে যদি একটি শিশু নিরাপদ না থাকে, তাহলে কেবল সরকারের দিকে আঙুল তুললে হবে না। পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজসহ সবার মধ্যে দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক নজরদারি বাড়াতে হবে।

তার ভাষায়, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতেও আরও অনেক রামিসা একই ধরনের নৃশংসতার শিকার হতে পারে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সন্তান যখন এমন নির্মম অপরাধের শিকার হয়, তখন এর দায় শুধু পরিবারের কাঁধে পড়ে না; সমাজ ও রাষ্ট্রকেও এর জবাবদিহি করতে হয়। তিনি রামিসা হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মামলায় কোনো ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়নি এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়নি। এসব কারণে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি দাবি করে তিনি আসামিদের অব্যাহতি চান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগুলোতে শিশুটিকে খোঁজার ঘটনাপ্রবাহ, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত করা, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ভূমিকাও সাক্ষ্যপ্রমাণে আলোচিত হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতে নিজের দায় স্বীকার করেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। তিনি বলেন, অপরাধে তিনি জড়িত এবং এ ঘটনায় আরেকজনেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে নিজের স্ত্রীকে নির্দোষ বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে স্বপ্না আক্তার আদালতের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেন। পরে আদালত উভয় আসামির বক্তব্য নথিভুক্ত করে রায়ের জন্য ৭ জুন দিন নির্ধারণ করেন।

এখন আলোচিত এই মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে রামিসার পরিবারসহ দেশবাসী। তাদের প্রত্যাশা, এই রায় শুধু একটি ঘটনার বিচারই নয়, ভবিষ্যতে শিশুদের বিরুদ্ধে এমন অপরাধ প্রতিরোধেও শক্ত বার্তা হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *