ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সৌদি আরবপ্রবাসী তরুণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ২৩ বছর বয়সী আনোয়ার হোসেন নামে সেই প্রবাসী।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয় একটি সেলুনে। এশার নামাজের সময় সেখানে এক যুবককে মারধর করা হচ্ছিল। ঘটনাটি দেখে আনোয়ার হোসেন প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরেই পরে আনোয়ারের ওপর হামলা চালানো হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে একটি অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তবে চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
আনোয়ারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে। সৌদি আরবে কর্মরত এই তরুণ পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে কাজ করছিলেন। ছুটিতে দেশে ফিরে এমন পরিণতি কেউ কল্পনাও করেনি।
নিহতের বাবা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেছেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, তার ছেলে বিদেশে শ্রম দিয়ে পরিবারের জন্য সংগ্রাম করছিল। সেই ছেলেকেই নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তাই তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটি প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে একজন তরুণ প্রবাসীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে।








