শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

সবশেষ

৩৯ দেশের আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর ট্রাম্পের বিধিনিষেধ খারিজ

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে বিশ্বের ৩৯টি দেশের ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। গত শুক্রবার দেওয়া এই রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে বিচার বিভাগ।

এই বিধিনিষেধগুলো মূলত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর হামলার ঘটনার পর আরোপ করা হয়েছিল। এরপর থেকেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন, গ্রিন কার্ড, কাজের অনুমতি এবং নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।

ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জন ম্যাককনেল রায়ে উল্লেখ করেন, এসব পদক্ষেপের কারণে বহু অভিবাসী বছরের পর বছর ধরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছেন।

তার পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আবেদনকারীরা নিজেদের কোনো ভুলের কারণে নয়, বরং জন্মসূত্রে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিক হওয়ায় এই জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।

বিচারক আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন ঝুলে থাকায় অনেকেই কাজের সুযোগ হারিয়েছেন, বৈধ আইনি মর্যাদা পাননি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও করতে পারছেন না।

আদালতের ভাষ্যে, ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। তবে বিচারক ম্যাককনেল সেই যুক্তির সমালোচনা করে বলেন, অভিবাসন দপ্তর তাদের সিদ্ধান্তে নিরাপত্তার বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং প্রকৃতপক্ষে এটি অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে কাজ করেছে।

প্রসঙ্গত, বিধিনিষেধের আওতায় থাকা ৩৯টি দেশের বেশির ভাগই আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত।

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে দাবি করেছিল, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অভিবাসন নীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াও ধাপে ধাপে কঠোর করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ৭৫টি দেশের বেশির ভাগ নাগরিকের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করে, যেখানে যুক্তি হিসেবে সামাজিক সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপের আশঙ্কার কথা বলা হয়।

তবে সর্বশেষ আদালতের এই রায়ে সেই কঠোর নীতির বড় একটি অংশ আপাতত বাতিল হয়ে গেল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *