সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

তবে কি ট্রাম্পের আহ্বানেই হামলা থামাল ইরান?

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তেজনার মধ্যেই উভয় পক্ষকে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চলমান সামরিক অভিযান সমাপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্পের আহ্বানের সঙ্গেই কি তেহরানের এই সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক রয়েছে?

স্থানীয় সময় সোমবার (৭ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে গুলি ও হামলা বন্ধ করতে হবে।’

এর আগে, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরায়েল-ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাত তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান আলোচনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে না। বরং উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ইতিবাচক সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননকে ঘিরে বিরোধ অব্যাহত থাকে। ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

গত সপ্তাহে বৈরুতে হামলার হুমকি দিলে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, লেবাননের রাজধানীতে আঘাত এলে তারা নীরব থাকবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এমন হামলা পুরো অঞ্চলকে আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এদিকে সংঘাত বিস্তার রোধে ট্রাম্পও ইসরায়েলকে সংযত থাকার আহ্বান জানান। এমনকি লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সেই আহ্বানের পরও গত রোববার (৬ জুন) বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এর জবাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই ছিল দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ।

এরপর সোমবার (৮ জুন) সকালে তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানে নতুন করে হামলা চালায় ইসরায়েল। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে বিভিন্ন এলাকা। পাল্টা জবাব দেয় ইরানও। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, সশস্ত্র বাহিনীর চলমান অভিযান আপাতত সমাপ্ত করা হয়েছে।

তবে হামলা বন্ধের ঘোষণার পাশাপাশি কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছে তেহরান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যদি আবার ইরান বা লেবাননে হামলা চালায়, তাহলে এর জবাব আগের চেয়ে আরও কঠোর ও শক্তিশালী হবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে পাল্টা হামলা না চালানোর বিষয়ে তিনি নেতানিয়াহুকে নির্দেশ দিয়েছেন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তার (নেতানিয়াহুর) কোনো উপায় নেই। আমি সব সিদ্ধান্ত নিই, তিনি নেন না।’

ফক্স নিউজ ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভালো চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং বর্তমান উত্তেজনা সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে না।

ফলে, ট্রাম্পের প্রকাশ্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান এবং তার পরপরই ইরানের সামরিক অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও তেহরান সরাসরি ট্রাম্পের আহ্বানকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেনি, তবু হামলা বন্ধের ঘোষণার সময় ও প্রেক্ষাপট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *