গ্রাহকদের ব্যাপক টাকা উত্তোলনের চাপের মধ্যে তারল্য সংকটে পড়া ইসলামী ব্যাংককে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ অর্থ ছাড় করে, যার ফলে ব্যাংকটির চেক নিষ্পত্তি কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে সরাসরি এ অর্থ জমা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের মধ্যে অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকটি নগদ অর্থের সংকটে পড়ে।
ইসলামী ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে আমানত জমার তুলনায় টাকা উত্তোলনের চাপ অনেক বেশি। অধিকাংশ গ্রাহক ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কিছু শাখার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। তাই গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা চেয়েছিল। তারই অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যাংকটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি প্রভাব রয়েছে। চেয়ারম্যানসহ পাঁচজন পরিচালকই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র পরিচালক। ঈদুল আজহার আগে ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করলে একই দিন রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে চেয়ারম্যান পরিবর্তনের পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন একদল গ্রাহক। রোববারও ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। পাশাপাশি আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।
ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তীব্র হয়েছে। জাতীয় সংসদেও ব্যাংকটির পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রভাবেও গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে এবং অর্থ উত্তোলনের চাপ আরও বৃদ্ধি পায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে শেয়ারবাজার থেকে বিভিন্নভাবে শেয়ার কিনে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তাদের সহায়তা করেছিল ডিজিএফআই। পরে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত প্রতিনিধিরা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছেন।
ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থাও এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের মোট ঋণের ৫০ শতাংশের বেশি এখন খেলাপি। এর বড় একটি অংশ বিভিন্ন নামে ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।








