মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির আলোচনা যখন ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে ইসরায়েল। ফলে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বিমান হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং গোলাবর্ষণ চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
নাবাতিয়েহ, টাইর, মারজাইউন, সাইদা এবং বিনতে জবেইল অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সময়ে সীমান্তবর্তী ২৪টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয় ইসরায়েল।
এ অবস্থায় পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি দাবি করেছে, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক যান ও একটি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, গত এক সপ্তাহে তারা হিজবুল্লাহর সাত সদস্যকে হত্যা করেছে। পাশাপাশি একদিনেই সংগঠনটির ৭০টির বেশি স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা থেমে নেই। আগামী ২২ জুন ওয়াশিংটনে নতুন দফা আলোচনায় বসার কথা রয়েছে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠেয় ওই বৈঠকে সীমান্তবর্তী একটি পরীক্ষামূলক বা ‘পাইলট জোন’ থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।
এদিকে সংঘাতের পেছনে কেবল নিরাপত্তা ইস্যুই নয়, অর্থনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত স্বার্থও কাজ করছে বলে দাবি উঠেছে। এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, লেবাননের ভেতরে বাফার জোন তৈরির প্রচেষ্টার নেপথ্যে সম্ভাব্য জ্বালানি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে কয়েকজন বিশ্লেষকের মতামত তুলে ধরে বলা হয়েছে, লেবাননের উপকূলীয় এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রবণতা দেশটির তেল ও গ্যাসসম্পদকে ঘিরে বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিতে পারে।
ফলে একদিকে যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে লেবানন সীমান্তে চলমান হামলা ও পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।








