বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

এনসিপির গাড়িবহরে হামলা: ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, প্রত্যাহার হলো ১৪৪ ধারা

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা, গুরুতর আহত করা, চুরি এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় নাম থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আসিফুল ইসলাম, পৌর ছাত্রদল নেতা মুজাক্কির হোসেন এবং ছাত্রদল নেতা এম এইচ শিমুল, আল সাইমন, মাহফুজ চৌধুরী, ইশতিয়াক রহমান, শেখ সাব্বির, নাজমূল হোসেন ও রক্সি ইসলাম।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ। তার দাবি, এনসিপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাদের বিরুদ্ধে করা মামলাটি পূর্বপরিকল্পিত।

এর আগে, বুধবার রাত ৯টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার বিকেলে। সেদিন হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষ করে ফেরার সময় এনসিপির নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করে এনসিপি। দলটি এ ঘটনার জন্য বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করে।

একই দিন সন্ধ্যায় এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে শহরে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরদিন এনসিপি এবং বিএনপি-ছাত্রদল পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করলে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।

বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে প্রবেশের পথে শ্রীমঙ্গল ও বাহুবলের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। পরে শহরে প্রবেশ করতে না পেরে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা, নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যরা কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ জানান, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় আগের দিন এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও এখন তা আর বহাল রাখার প্রয়োজন নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *