শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সবশেষ

চাপের মুখে নেতানিয়াহু: নির্বাচনে পরেই কি শেষ হচ্ছে তার রাজনৈতিক জীবন?

আসন্ন ইসরাইলি সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সম্ভাব্য সমাপ্তি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। যুদ্ধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক, দুর্নীতির অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক চাপে কঠিন সময় পার করছেন এই ইসরাইলি নেতা।

ইসরাইলের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহু এখন এমন এক নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন, যা তার প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।

অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে তার নেতৃত্বের পরিবর্তে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাত ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা এবং একাধিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্ত করার প্রচেষ্টার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এরপর ইরান ইসরাইল, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে ইসরাইল লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে দক্ষিণ ইসরাইলে হামাসের হামলার আগে ও পরে সরকারের ভূমিকা নিয়ে এখনো কোনো স্বাধীন তদন্ত না হওয়ায় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

সমালোচকদের মতে, এই ঘটনার পর সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঘাটতি প্রকাশ পেয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতির একাধিক মামলা, যা ২০১৯ সাল থেকে চলমান। দোষী সাব্যস্ত হলে নেতানিয়াহুর কারাদণ্ডও হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গাজা যুদ্ধের পর ইসরাইল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে এবং বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলেও সমালোচনা বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতিতেও এখন যুদ্ধের পরিবর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দিকে ঝোঁক দেখা যাচ্ছে।

এদিকে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের মধ্যে লেবানন ইস্যুতে নীতিগত পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ সীমিত করতে চাইলেও ইসরাইলের অবস্থান আরও কঠোর বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবানন একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ-সম্পর্কিত সমঝোতায় লেবানন ইস্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে দক্ষিণ লেবাননে নতুন কোনো সংঘাত পুরো সমঝোতা কাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *