ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা গেছে ফ্রান্সে, যেখানে অতিরিক্ত অন্তত এক হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা স্যঁতে পাবলিক। তবে সংস্থাটির আশঙ্কা, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
রোববার প্রকাশিত প্রাথমিক পরিসংখ্যানে বলা হয়, তাপপ্রবাহজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে কেয়ার হোম ও ব্যক্তিগত বাসায় ঘটে যাওয়া মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও যুক্ত হয়নি। ফলে চূড়ান্ত হিসাব আরও বাড়তে পারে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, মৃতদের অধিকাংশের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি শুধু প্রবীণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তীব্র গরম শিশু, কর্মজীবী মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহকে ইউরোপের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে ভয়াবহগুলোর একটি বলে মনে করছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও দ্রুত বাড়ছে, যার ফলে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।
ইতোমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অতীতের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। তাপপ্রবাহের কারণে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দেশের অনেক এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি অঞ্চল এখনও তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তার আওতায় রয়েছে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্তেফানি রিস্ট বলেছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও তাপপ্রবাহের স্বাস্থ্যগত প্রভাব আরও প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সংকট এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা
ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাইরে বের হলে পর্যাপ্ত পানি পান করুন, হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং সম্ভব হলে দুপুরের প্রচণ্ড গরম এড়িয়ে চলুন। বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্তদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন। কারও মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, বিভ্রান্তি বা হিট স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত স্থানীয় জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং প্রয়োজন হলে নিকটস্থ হাসপাতালে যান।








