সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সবশেষ

হাসিনার দেশে ফিরতে চাওয়া রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি: চিফ প্রসিকিউটর

ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশে ফিরতে চাইলে ঘোষণায় নয়, আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচার মোকাবিলা করা উচিত।

সোমবার (২৯ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও বর্তমানে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা যদি সত্যিই দেশে ফিরতে চান, তাহলে ট্রাইব্যুনালে এসে নিজের পক্ষে আইনগত লড়াই করুন। তার ভাষায়, ‘আমরাও চাই শেখ হাসিনা আসুক, নিজের মামলা নিজে লড়ুক। তার দেশে ফিরতে চাওয়া স্ট্যান্টবাজি। সাহস থাকলে দেশে এসে জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচার মোকাবিলা করুন।’

ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট ২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি জুলাই হত্যাযজ্ঞ-সংশ্লিষ্ট ১০টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। এসব প্রতিবেদনের মধ্যে শাহজাহান খান, আমির হোসেন আমু এবং বিচারপতি মানিকের বিরুদ্ধে তদন্তও রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলো দ্রুত ফরমাল চার্জ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে, রোববার ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা চলতি বছরেই বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। তবে আদালতের নথি অনুযায়ী তিনি বর্তমানে একজন পলাতক আসামি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিশেষ হেলিকপ্টারে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন।

জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি দুইটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *