বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

সমান ৬ গোল, তবু গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসির চেয়ে এগিয়ে এমবাপ্পে; কারণ জানেন?

২০২৬ বিশ্বকাপে গোলের লড়াই এখন জমে উঠেছে। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের ঝুলিতে সমান ৬টি করে গোল। তবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় গোলসংখ্যা সমান থাকলেও গোল্ডেন বুটের হিসাব বলছে, এই মুহূর্তে এগিয়ে আছেন এমবাপ্পেই।

গত ৩১ জুন শেষ ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ৬-এ নিয়ে যান এমবাপ্পে। ফলে তিনি মেসির সমান গোল করেন। তবে শনিবার (৪ জুলাই) কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে আবারও এককভাবে শীর্ষে ওঠার সুযোগ থাকবে মেসির সামনে।

যদিও গোলের হিসেবে দুজন সমানে থাকলেও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ফরাসি তারকা। কারণ, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী একাধিক ফুটবলারের গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথমে বিবেচনায় নেওয়া হয় অ্যাসিস্ট। যার অ্যাসিস্ট বেশি, তিনিই গোল্ডেন বুটের দাবিদার হন। যদি গোল ও অ্যাসিস্টে সমতা থাকে, তখন কম মিনিট খেলেছেন এমন খেলোয়াড়কে এগিয়ে রাখা হয়।

এই হিসাবেই বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন এমবাপ্পে। ৬ গোলের পাশাপাশি তিনি করেছেন ২টি অ্যাসিস্ট। অন্যদিকে মেসির গোলসংখ্যা সমান হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো অ্যাসিস্ট নেই।

গোল্ডেন বুটের বর্তমান লড়াইয়ে অবশ্য আরও কয়েকজন ফুটবলার রয়েছেন। নরওয়ের আর্লিং হলান্ড ৫ গোল করে মেসি-এমবাপ্পের পেছনে আছেন। আর ৪টি করে গোল করেছেন ফ্রান্সের ওসমান দেম্বেলে ও ব্রাজিলের ভিনিসিউস জুনিয়র। দেম্বেলের অ্যাসিস্ট ২টি, আর ভিনিসিউসের ১টি।

বর্তমান সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকা

কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স) — ৬ গোল, ২ অ্যাসিস্ট
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) — ৬ গোল, ০ অ্যাসিস্ট
আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে) — ৫ গোল, ০ অ্যাসিস্ট
ওসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স) — ৪ গোল, ২ অ্যাসিস্ট
ভিনিসিউস জুনিয়র (ব্রাজিল) — ৪ গোল, ১ অ্যাসিস্ট

বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের সঙ্গে এমবাপ্পের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল করে তিনি এই পুরস্কার জিতেছিলেন। সেবার ৭ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন মেসি। এবারও যদি এমবাপ্পে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেন, তাহলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুই আসরে গোল্ডেন বুট জয়ের নজির গড়বেন।

চলমান বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আরও দুজন সাবেক গোল্ডেন বুটজয়ী ফুটবলারের সামনে তাত্ত্বিকভাবে একই সুযোগ রয়েছে। তারা হলেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেস। হামেস ২০১৪ বিশ্বকাপে ৬ গোল করে এবং কেন ২০১৮ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন। তবে বর্তমান গোলসংখ্যার ব্যবধান বিবেচনায় মেসি বা এমবাপ্পেকে টপকে যাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মেসির সামনে রয়েছে ব্যক্তিগত একটি বিশেষ লক্ষ্য। বিশ্বকাপে দুবার সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল জিতলেও তিনি কখনোই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারেননি। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে সেই অপূর্ণতাও ঘোচাতে চাইবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *