টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতির জন্য শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। একই দাবিতে বগুড়াতেও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর সড়কের সায়েন্স ল্যাব মোড় এলাকায় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে কর্মসূচি শেষ হলে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। অবরোধ শেষে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঢাকা কলেজের সামনে এবং অন্য একটি অংশ টিএসসির দিকে চলে যায়।
আন্দোলনে ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএফ শাহীন কলেজসহ ১২ থেকে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক, দাবি এক-শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’, ‘তুমি কে, আমি কে, ফার্মের মুরগি’ এবং ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত অভিযোগ করেন, পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার আটটি প্রশ্নের মধ্যে দুটি ভুল ছিল। তার দাবি, বাকি ছয়টি প্রশ্নও অস্বাভাবিকভাবে কঠিন করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মানের বলে মনে হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ কারণে কোনো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে তার দায়ভার শিক্ষামন্ত্রী নেবেন কি না।
ঢাকা আইডিয়াল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ মুনজি বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। কেউ কেউ পথে পড়ে গেছেন, আবার অনেকের অ্যাডমিট কার্ড ভিজে নষ্ট হয়েছে। এসব সমস্যার দায়ও শিক্ষামন্ত্রীর ওপর বর্তায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ একজন শিক্ষামন্ত্রীকে তারা আর দায়িত্বে দেখতে চান না। তাই তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এদিকে একই দাবিতে বগুড়াতেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মহানগরীর সাতমাথা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং শিক্ষাসচিবের অপসারণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।








