অধিকৃত পশ্চিম তীরে গড়ে ওঠা ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে সক্রিয় আলোচনা শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ বিষয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সমর্থন কতটা রয়েছে, তা যাচাই করতে সোমবার ব্রাসেলসে বৈঠকে বসেন ইইউভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
বৈঠকের শুরুতে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস বলেন, পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি ‘অসহনীয়’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিষয়টি নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিস্তৃত ঐকমত্য রয়েছে। তার মতে, সেখানে চলমান পরিস্থিতি ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের সম্ভাবনাকে ক্রমেই আরও কঠিন করে তুলছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ইইউ কূটনীতিক এবং এক ইউরোপীয় কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইউরোপীয় কমিশনের একটি গোপন নথি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করতে তিনটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো, আমদানি লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করা, প্রতিরোধমূলক শুল্ক আরোপ অথবা সরাসরি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা।
তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ইইউর জন্য সহজ নয়। ২৭ সদস্যের এই জোটে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারিত্বের প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য নীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলা ইইউর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
তবু সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি এবং বসতি সম্প্রসারণে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর-ডানপন্থি সরকারের ভূমিকা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এর ফলে অবৈধ বসতিগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আগের তুলনায় আরও জোরালো হয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের মে মাসে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গুরুতর ও পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে চারটি সংস্থা এবং তিনজন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
এদিকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক পরামর্শমূলক মতামতে জানায়, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও সেখানে গড়ে ওঠা বসতিগুলোর ওপর ইসরাইলের দখলদারিত্ব আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ। একই সঙ্গে আদালত মত দেয়, এমন বাণিজ্য বা বিনিয়োগ সম্পর্ক বন্ধে রাষ্ট্রগুলোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যা এই দখলদারিত্বকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে।








