শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার তদন্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনের নাম, হাইকোর্টে শুনানি বুধবার

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নাম উঠে এসেছে। হাইকোর্টে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে তিনি ব্যাংকের পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন এবং এস আলম গ্রুপের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা ছিল বলে তদন্তে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার-সংক্রান্ত মামলার শুনানি বর্তমানে হাইকোর্টে চলমান রয়েছে। মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আব্দুল কাইয়ুম জানিয়েছেন, আগামী বুধবার এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ব্যাংক কোম্পানি আইনের একাধিক বিধান লঙ্ঘন করে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারির অভিযোগ তদন্ত শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে জমা দেওয়া ৪২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে শেয়ার জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্স ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ বের করে সেই অর্থ দিয়েই ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনার অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে আর্থিক ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরে এসব নিরীক্ষা প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে লন্ডনভিত্তিক ফরেনসিক প্রতিষ্ঠান The Lloyd অনুমোদন দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

ব্যারিস্টার এম. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ইসলামী ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৫ সালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। আদালত ওই মামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নৈতিকতার প্রশ্নে একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকতে পারেন কি না, সেটি এখন জনপরিসরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার-সংক্রান্ত মামলাটি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *