চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত অপরাধী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে পাঁচ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে যশোরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি জানান, অভিযানে ইমনের সঙ্গে আরও পাঁচ সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া সবাই শুটার হিসেবে পরিচিত।
পুলিশের তথ্য বলছে, ডেভিড ইমন বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও হুমকির একাধিক ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছে।
কে এই ডেভিড ইমন?
মোবারক হোসেন ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়। তিনি মো. মুসার ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকায় সংঘটিত জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি তিনি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন, এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ বলেও পুলিশের দাবি। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বড় সাজ্জাদ বিদেশে অবস্থান করলেও তার পক্ষে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন দুজন। তাদের একজন মোবারক হোসেন ইমন। এর আগে একই নেটওয়ার্কের নেতৃত্বে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন এবং মোহাম্মদ রায়হান সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
পুলিশ জানায়, মোহাম্মদ রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে। এছাড়া বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে প্রায় ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি। তাদের অভিযোগ, মোবারক হোসেন ও রায়হান বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করতেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থাকলেও এতদিন তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।








