শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশের আহ্বান, ইতিবাচক বার্তা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত

বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। একই সঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্যও উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা বহন করবে।

শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন সার্জিও গর। পরে এ বৈঠক নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।

বৈঠকে সার্জিও গর বলেন, বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দৃঢ় আস্থা রয়েছে। এই আস্থারই প্রতিফলন হিসেবে বাংলাদেশ-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে সংশোধন করা হয়েছে। তার মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে পরিষ্কার বার্তা যাবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।

বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছাড়াও রোহিঙ্গা সংকট, খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) সহযোগিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বিশেষ করে সয়াবিন, তুলা, গমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের সংরক্ষণাগার নির্মাণে মার্কিন বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, এসব খাতে বিনিয়োগ হলে দেশের সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জবাবে সার্জিও গর বলেন, আইটি খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটি ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্যাক্স সিলিকা’ নামে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক একটি উদ্যোগ চালু করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

রোহিঙ্গা ইস্যুতেও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। সার্জিও গর জানান, আগের দিন তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেছেন। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রশংসা করেন তিনি।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। এ জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন মার্কিন বিশেষ দূত।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) সহযোগিতায় বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে উভয় পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *