দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় থাকা ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথকে আবারও কার্যকর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ২৬ বছর আগে শুরু হওয়া এই প্রকল্প নানা সীমাবদ্ধতায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়ে। এবার নৌপথ পুনর্দখল, দূষণমুক্তকরণ এবং যাত্রীবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে প্রকল্পটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে ঢাকার চারপাশের ১১০ কিলোমিটার বৃত্তাকার নৌপথ উন্নয়নসংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা এ তথ্য জানান।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর চারপাশের এই নৌপথ পরিচালনায় গত এক দশকে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় দুই মাস পর বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে নৌপথ পরিচালনাকে লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চারটি নদীর ৪২৪টি স্থানে জমে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নৌপথ সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, নদীতে যাতে আর কেউ বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে লক্ষ্যে নদীতীর সংরক্ষণ, পাড় বাঁধাইসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, রাজধানীর সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার মতো নৌপথকেও গণপরিবহনের অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে একটি সমন্বিত বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃত্তাকার নৌপথকে নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে প্রকল্পটির সূচনা হয়। এরপর ২০০৪-১০, ২০১৩-১৪ এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে মোট পাঁচ দফায় ওয়াটার বাস ও লঞ্চ চালু করা হলেও যাত্রীসংকট, পানির দুর্গন্ধ, পর্যাপ্ত নৌযানের অভাব এবং ধীরগতির কারণে কোনো উদ্যোগই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
সরকারের আশা, এবার সমন্বিত পরিকল্পনা, নদী পুনরুদ্ধার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘ ২৬ বছরের অচলাবস্থা ও আর্থিক লোকসানের অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথকে আবারও নগর পরিবহনের কার্যকর বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।








