বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের বোঝা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের পরিসংখ্যানে। একদিকে বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে সরকারকে, অন্যদিকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এবং অর্থছাড় কমেছে। এমন পরিস্থিতিকে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অর্থায়নের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে মোট ৪৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগের অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৪০৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। গত ১৪ বছরে এই ব্যয় প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত ইআরডির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের মূল অর্থ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ২৯৫ কোটি ডলার। এছাড়া সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে আরও ১৫৪ কোটি ডলার।
একই সময়ে নতুন বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে ৫২৪ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরে এ অঙ্ক ছিল ৮৩২ কোটি ৩৩ লাখ ডলার।
শুধু প্রতিশ্রুতিই নয়, ঋণের অর্থছাড়ের পরিমাণও কমেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ছাড় হয়েছে ৮০৭ কোটি ৩১ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে একই খাতে অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল ৮৫৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক ঋণের প্রবাহ কমে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক সংকেত নয়। কারণ দেশের রাজস্ব আহরণ এখনো প্রয়োজনীয় মাত্রায় পৌঁছায়নি এবং করভিত্তিক অর্থনীতিও পুরোপুরি শক্তিশালী হয়নি। ফলে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা এবং বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা এখনো উল্লেখযোগ্য। এই প্রবাহ কমে গেলে উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি ধীর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাদের পরামর্শ, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও ব্যয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে বৈদেশিক অর্থায়নের প্রবাহ বজায় থাকে।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি ২০৭ কোটি ডলার ছাড় করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), যার অর্থছাড়ের পরিমাণ ১৯১ কোটি ডলার। আর তৃতীয় বৃহত্তম ঋণদাতা হিসেবে রাশিয়া ছাড় করেছে ১০৫ কোটি ডলার।








