বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প

সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার প্রস্তাবিত চুক্তিকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পথে এগিয়ে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সৌদি আরবের ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্তের ওপর।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রয়টার্সকে মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। সোমবার সেটি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানির সুযোগ পাবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান অনুযায়ী, সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দিলে চুক্তিটি কার্যকর হবে না। ইসরায়েলের সঙ্গে আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এসব চুক্তি করা হয়েছিল।

কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
চুক্তিটি এখন কংগ্রেসের পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। আইন অনুযায়ী, এটি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য কংগ্রেসের হাতে ৯০টি অধিবেশন দিবস সময় রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কংগ্রেস আপত্তি না জানালে চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে।

কংগ্রেসের দুটি সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিটি এরই মধ্যে কংগ্রেসের নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বুধবার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর কাছেও এটি পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

কংগ্রেস চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্তে ভেটো দিতে পারবেন। তবে সেই ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাস অবশ্য এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বড় বিনিয়োগ
প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। এর আওতায় সৌদি আরবে এপি১০০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় কয়েক হাজার কোটি ডলার।

এতে কানাডাভিত্তিক ক্যামেকো এবং ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের যৌথ মালিকানাধীন ওয়েস্টিংহাউসের মতো কোম্পানিগুলো বড় ধরনের ব্যবসায়িক সুবিধা পেতে পারে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও রিয়াদের সঙ্গে এমন একটি চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার প্রশাসনও পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়টিকে সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিল।

গাজা যুদ্ধের পর বদলে যায় সৌদি অবস্থান
২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ওই বছরের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

বর্তমানে সৌদি আরবের অবস্থান হলো, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে একটি ‘অপরিবর্তনীয় পথ’ নিশ্চিত করতে হবে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাকে চুক্তি কার্যকরের শর্ত হিসেবে তুলে ধরেন।

চুক্তির পারমাণবিক শর্ত নিয়ে উদ্বেগ
চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সমালোচনা রয়েছে। কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত চুক্তিতে সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কিংবা পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই।

এই দুটি কার্যক্রমকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এর আগে, ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। পারমাণবিক বিস্তার রোধে এই ব্যবস্থাকে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে দেখা হয়।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তিতে মার্কিন আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় পারমাণবিক বিস্তার রোধের ব্যবস্থা রয়েছে।

ননপ্রলিফারেশন পলিসি এডুকেশন সেন্টারের প্রধান হেনরি সোকোলস্কির মতে, চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু করে ট্রাম্প এমন একটি পরিস্থিতির সুযোগ তৈরি করেছেন, যেখানে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া কিংবা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে কঠোর শর্ত ছাড়াই কংগ্রেস চুক্তিটি অনুমোদন করতে পারে।

তার ভাষ্য, পারমাণবিক বিস্তার রোধ এবং ইসরায়েলের স্বীকৃতির প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই কঠোর অবস্থানে থাকতে চায়, তাহলে এমন সম্ভাবনা মোটেও আদর্শ নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *