প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স পাঠানো ও রপ্তানি বাণিজ্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার সিআইপি মর্যাদার পরিধি বাড়াচ্ছে সরকার। তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ১৩৫ জন অনাবাসী বাংলাদেশিকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৫ জনকে নির্বাচিত করা হবে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর জন্য। এছাড়া দেশের শিল্পখাতে সরাসরি বিনিয়োগের জন্য ৫০ জন এবং বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সঙ্গে যুক্ত ১০ জনকে সিআইপি মর্যাদা দেওয়া হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের সিআইপি নির্বাচনের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে। ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (অনিবাসী বাংলাদেশি) নির্বাচন নীতিমালা, ২০১৮’-এর আওতায় বিদেশে বসবাসরত যোগ্য বাংলাদেশিরা অনলাইনে এ আবেদনের সুযোগ পাবেন।
রেমিট্যান্স পাঠানোয় ৭৫ জনের সুযোগ
নতুন নির্বাচনে দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৭৫ জনকে সিআইপি হিসেবে বাছাই করা হবে। এ জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে অন্তত ১ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে হবে।
প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এ স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা প্রবাসীদের সিআইপি মর্যাদা দেওয়ার ধারাবাহিকতাও রয়েছে।
শিল্পে বিনিয়োগে ৫০ জন
দেশের শিল্পখাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের জন্য রাখা হয়েছে প্রথম ক্যাটাগরি। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ জন নির্বাচিত হবেন।
যোগ্যতার জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের শিল্পখাতে মূলধন হিসেবে কমপক্ষে ৩ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বা তার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি বিনিয়োগ করতে হবে।
বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে ১০ জন
তৃতীয় ক্যাটাগরিতে বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ ১০ জনকে সিআইপি করা হবে।
এ ক্যাটাগরিতে আবেদনের জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে কমপক্ষে ৩ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারক এবং অধিক মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্য রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সেপ্টেম্বরজুড়েই আবেদন
সিআইপি নির্বাচনের জন্য আবেদন করা যাবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত। নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন জমা দিতে হবে।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা মিশন কিংবা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সরাসরি হার্ড কপি জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।
আবেদন অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ হলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই যেকোনো আবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাতিল বা স্থগিত করার অধিকারও কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে।
পাঁচ বছরে সিআইপি হয়েছেন ৩২৬ প্রবাসী
প্রবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গত পাঁচ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৩২৬ জন বাংলাদেশি সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন। এ তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা।
শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর ভিত্তিতে গত পাঁচ বছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৪৯ জন বাংলাদেশি সিআইপি হয়েছেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশটি থেকে যথাক্রমে ৩০, ৩৭, ২৬, ১৬ ও ৪০ জন প্রবাসী এ মর্যাদা পেয়েছেন।
এ ছাড়া বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক হিসেবেও গত পাঁচ বছরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরও ১০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন।
রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের শর্তে আবেদনের সুযোগ থাকায় প্রতি বছর সিআইপি হওয়ার আগ্রহ ও আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে আগের মতো সিআইপির সংখ্যা ৯০ জনে সীমাবদ্ধ না রেখে এবার তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ১৩৫ জন অনাবাসী বাংলাদেশিকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রবাসীদের বিনিয়োগ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এসব খাতে আরও বেশি প্রবাসীকে সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।








